ঢাকা , বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬ , ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সান্তাহারে সরকারি পুকুর রক্ষায় পদক্ষেপ, উল্টো রোষানলে প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৩-৩১ ২১:৫১:৩৪
সান্তাহারে সরকারি পুকুর রক্ষায় পদক্ষেপ, উল্টো রোষানলে প্রশাসন সান্তাহারে সরকারি পুকুর রক্ষায় পদক্ষেপ, উল্টো রোষানলে প্রশাসন


আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি:


বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে সরকারি পুকুর থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। এ লক্ষ্যে সোমবার (৩০মার্চ) বিকেলে উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তবে আইনানুগ দায়িত্ব পালনের এই পদক্ষেপের পর উল্টো কিছু প্রভাবশালী ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীর ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। এতে তাদের ওপর নানামুখী চাপ, হুমকি ও ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার বিরাজ করেছে। সরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের এমন সময়োপযোগী ও ন্যায্য উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সচেতন মহল। তবে এ ধরনের দায়িত্বশীল পদক্ষেপ গ্রহণের পর কর্মকর্তাদের হয়রানির ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক বলেও তারা মনে করছেন। 


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সান্তাহার পৌর শহরের নতুন বাজার এলাকার শাহী মসজিদের পাশের একটি সরকারি পুকুরে কয়েকদিন ধরে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে মাটি কাটা হচ্ছিল। অভিযোগ রয়েছে, উত্তোলিত এই মাটি পাশের একটি ইটভাটায় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। ফলে পুকুরের স্বাভাবিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সংলগ্ন সড়কও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে, যা সাধারণ মানুষের চলাচলে মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে। সচেতন এলাকাবাসীরা জানায়, শাহী মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আজাহারুল ইসলাম সাজ্জাদ পুকুরটিকে মসজিদের সম্পত্তি বলে দাবী করে প্রভাব খাটিয়ে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। তবে ইউনিয়ন ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, উক্ত জমিটি বশিপুর মৌজার ১ নম্বর খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত। জমির মধ্যে মসজিদ, পুকুর, অজুখানা, মার্কেট এবং কিছু পতিত জমি রয়েছে, যেগুলোর কোনো বৈধ লিজ নেই।

 এ কারণে জমিটি সরকারি সম্পত্তি হিসেবেই বিবেচিত। পরবর্তীতে পুকুরসংলগ্ন এক বাসিন্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে গিয়ে সোমবার বিকেল তদন্ত পরিচালনা করে এবং অভিযোগের সত্যতা পায়। পরবর্তীতে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদা সুলতানা তাৎক্ষণিকভাবে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।


উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম জানান, সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জরিমানা আরোপ করা হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ